সেদিন ও তুমি [পর্ব-০২]

পেখম শাস্তির এ’কটা  রাত ঘুমাতে পারেনি। ক্লাস না থাকায় আরেকটু ভালোই হয়েছে তার জন্য। কিন্তু লিখতে লিখতে বেচারির হাত ব্যথা হয়ে গিয়েছে, তারপরও একটার পর একটা লাইন লিখেছে। যত যাই হোক নওশিরের দেওয়া শাস্তি। যতবার হাত থেমেছে, মনে পড়েছে সাজেকের সেই দিনগুলোর কথা। তাতেই রাগ উঠছে, কে বলেছিলো নওশিরের সাথে এতো অদ্ভুত কথোপকথন বাড়ানোর, বাচ্চামি আর কান্নাকাটি করা, নওশির পেখমকে বুঝিয়েছে আর শেষবার কিনা সে বিদায়ের সময় নওশিরের সাথে দেখাও করেনি। স্বার্থপরের মতো চলে এসেছে তারপর চলে গেছে ২টি বছর৷ আর এতদিন পর দেখা হওয়াতে সাজেকের সকল কথা মনে পড়ছে আর পেখমের লজ্জা লাগছে নওশিরের সামনে যেতে। যতবার নওশিরের সাথে দেখা হবে ততবার সাজেকের কথা মনে পড়বে ভাবতেই কেমন লাগছে আর এই অনুভূতি গুলো সব যেন একসাথে ভিড় করেছে পেখমের মাথায়।

আজকে সকালে ক্লাসের আগে সাহস করে নওশিরের কেবিনের সামনে দাঁড়ালো। হাত কাঁপছে। দরজা ঠকঠক করতেই ভেতর থেকে শান্ত গলায় শব্দ ভেসে এলো— “কাম ইন।”

পেখম ভেতরে ঢুকতেই দেখলো, নওশির ল্যাপটপে কিছু টাইপ করছে। চোখও তুললো না, শুধু বলল— “কমপ্লিট?”

পেখম তাড়াহুড়ো করে ফাইলটা এগিয়ে দিলো। তারপর নিচু গলায় বলল— “জি… শেষ করেছি।”

নওশির ফাইল হাতে নিয়ে দু’এক পাতা উল্টালো। মুখে কোনো প্রশংসা নেই, কোনো বিরক্তিও নেই। যেন পুরো মানুষটা পাথর। পেখম অস্বস্তিতে গলা শুকিয়ে এলো। মনে হলো এই কেবিন থেকে এখুনি দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়া দরকার। তখনই নওশির হঠাৎ চোখ তুললো পেখমের দিকে তার চোখদুটো শান্ত, কিন্তু গলায় চাপা তাচ্ছিল্য তা মিশিয়ে জিজ্ঞেস করল— “কাজটা শেষ করতে… কত রাত জেগেছেন? একা করেছেন নাকি কেউ হেল্প করেছে?”

পেখম জবাব করতে পারলো না তবে তার চোখে চোখ পড়তেই পেখমের বক্ষ ধক করে উঠলো। ঠোঁট কেঁপে উঠলো, কিছু বলতে পারলো না। আবারো মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। নওশির হালকা হাসলো। আবার ল্যাপটপের দিকে ফিরে গেলো। স্থীর দৃষ্টি রেখে নির্জীব গলায় বলল, “ইউ মে গো নাও।”

পেখম দ্রুত বেরিয়ে এলো। করিডরের ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগতেই বুঝলো, শ্বাস নিতে ভুলে গিয়েছিলো এতক্ষণ। কিন্তু অজান্তেই এই সব দৃশ্য এক প্রান্ত থেকে দেখছিলো আফ্রিদ। পেখমের কেবিনে যাওয়া, আবার দ্রুত ছুটে আসা, সবকিছু। তার ভেতরে অদ্ভুত এক কাঁপুনি এলো। সে ভালো করেই জানে পেখমের অতীত ট্রমা আর কষ্টগুলো। তাই নওশিরের এই শীতলতা তাকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে একটু দ্বিধা নিয়ে পেখমের পিছু নিলো। কিন্তু পেখম গতি বাড়িয়ে ভিড়ের মাঝে মিলিয়ে গেলো। আফ্রিদের বুকের ভেতর তখনও কি একটা যেনো গর্জন করছে।

সেদিনের পর থেকে আফ্রিদ আরো সচেতন হয়ে উঠলো পেখমের প্রতি। ক্লাসে হোক, লাইব্রেরিতে হোক। যখনই সুযোগ পাচ্ছে, পেখমের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখছে। আর পেখমের সামান্য অস্বস্তিও তার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে না। ক্লাস শেষে করিডর দিয়ে নামছিলো পেখম। সবাই নিজের মতো চলে যাচ্ছে। হঠাৎ পেছন থেকে শান্ত পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এলো, “পেখম।”

পা থেমে গেলো। বুকের ভেতর কেমন কেঁপে উঠলো। ধীরে ধীরে ফিরে তাকালো।

নওশির দাঁড়িয়ে আছে, হাতে এপ্রোন ঝোলানো। চোখ সরাসরি পেখমের দিকে সাথে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর নওশির নিম্নকণ্ঠে শুধু একটা বাক্য বলল,“এভ্রিং ইজ ওকে?।”

বলেই ভিড়ের মাঝে মিলিয়ে গেলো। পেখম বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইলো। আর করিডরের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা আফ্রিদ সবকিছু স্পষ্ট দেখলো। তার চোখে এবার শুধু কৌতূহল নয় এক অদ্ভুত সন্দেহ আর অস্থিরতাও জমে উঠলো পেখম আর নওশিরকে নিয়ে।

পরদিনের ক্লাসে ক্লাসরুম ভর্তি ছাত্রছাত্রী, সবাই টেনশনে কিন্তু একইসাথে কৌতূহলীও। নতুন টিচারকে নিয়ে গসিপের শেষ নেই। কেউ বলছে নওশির খুব স্ট্রিক্ট, কেউ বলছে খুব কুল। আবার অনেকে শুধু হ্যান্ডসাম হ্যান্ডসাম করে যাচ্ছে। পেখম নীরবে নিজের জায়গায় বসে। সামনে বই খোলা থাকলেও চোখে একফোঁটা মনোযোগ নেই। কেবলই মনে হচ্ছে, দরজা দিয়ে নওশির ঢুকলেই বুক ধড়ফড় শুরু হবে। ঠিক তখনই দরজা খুলে নওশির প্রবেশ করলো। সবাই একসাথে দাঁড়ালো। শান্ত মুখে চারপাশে তাকিয়ে সে বললো, “সিট ডাউন। চলুন শুরু করি।”

ক্লাস শুরু হলো। মেডিকেলের জটিল টপিকও নওশির এমনভাবে বুঝাচ্ছিলো, সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে। একসময় হোয়াইটবোর্ডে লিখতে লিখতে হঠাৎ বললো— “তাহলে কেউ বলবেন, এই অংশটা ক্লিয়ার হয়েছে তো?”

পুরো ক্লাস চুপ। কেউ উত্তর দিলো না। তখনই নওশিরের চোখ পড়লো পেছনের সারিতে বসা পেখমের দিকে। ঠাণ্ডা গলায় বলে উঠলো, “মিস পেখম? আপনি কিছু বলবেন না?”

মুহূর্তেই পেখম কেঁপে উঠলো। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ভরকে দাড়িয়ে গেলো তারপর তোতলাতে তোতলাতে বললো, “জি… মানে… কিছুটা বুঝেছি।”

“কিছুটা?”

নওশির ভ্রু তুলে ঠাণ্ডাভাবে আবারো তাচ্ছিল্য করে বললো, “ক্লাসে উপস্থিত থাকা আর ক্লাস ফলো করা; এই দুইটোই কিন্তু আলাদা ব্যাপার। ডোন্ট ইউ থিংক সো?”

পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ। কয়েকজনের মুখে চাপা হাসি। পেখম লজ্জায় মাথা নিচু করলো।

বেল বাজতেই ক্লাস ভেঙে গেলো। চারদিকে গসিপ শুরু হলো—

“দেখলি, স্যার আবার পেখমকেই ধরলো!”

“আরে, ভিসির পরে আবার এইবারও? সামথিং ফিশি, হা্?”

“হ্যান্ডসাম স্যারের টার্গেটই বুঝি ও!”

মিমিয়া পাশ থেকে বিরক্ত মুখে বললো,

“তোরা না চুপ করবি? ওকে নিয়ে এভাবে কথা বলছিস কেনো! ওকে নিয়ে তোদের এতো সমস্যা কি আমি বুঝি না!

কিন্তু গসিপ থামে না। কেউ নওশিরের প্রশংসা করছে, কেউ আবার পেখমকে নিয়ে খোঁচাচ্ছে। পেখম শুধু মাথা নিচু করে ব্যাগ গুছাচ্ছিলো।

করিডর দিয়ে বেরোনোর সময় পেখম টের পেলো পেছন থেকে কেউ হাঁটছে। ঘাড় না ঘুরিয়েই বুঝে গেলো, নওশির। ধীর কণ্ঠে শুনলো, “আপনি আবার ক্লাসের বাইরে থাকলে জানলা দিয়ে দেখতে হবে না।”

পেখম দাঁড়িয়ে গেলো। বুক কেঁপে উঠছে। মুখ ঘুরিয়ে কেবল বললো, “আমি চেষ্টা করবো।”

নওশির শান্ত চোখে তাকালো, ঠাণ্ডা গলায় উত্তর দিলো, “চেষ্টা নয়, ফল চাই।”

এটুকু বলে চলে গেলো সে। আর পেখম দাঁড়িয়ে রইলো গলায় জমে থাকা কথাগুলো গিলে ফেলে।

——

আজকের ক্লাস থেকে নওশির বের হতেই গসিপের ঝড় কানে এলো। মেয়েরা দল বেঁধে নওশির স্যারের প্রশংসা করছে, প্রতিদিন একই কথা শুনতে শুনতে মিমিয়া বিরক্ত। আর পেখম সারাটা ক্লাস গাঁট হয়ে বসে থাকে। যেনো সে একটা রোবট। মেয়েগুলো হইহই করে গসিপ করছে।

“স্যার একদম সিনেমার হিরোর মতো, তাই না?”

“বিদেশী টিচার হলে মজাই আলাদা তারউপর যদি হয় এমন হ্যান্ডসাম। তাহলে তো কথাই নাই।”

“আজকে পেখমের জন্য যা করেছে…।”

শেষ কথাটা শুনেই পেখম থমকে গেলো। মাথা নিচু করে ডেস্ক থেকে উঠে দ্রুত হাঁটা দিলো। ভেতরে রাগ, লজ্জা, অপমান সব মিশে কেমন যেন গা জ্বালা করছে। তাকে কে বলেছে পেখমকে সাহায্য করতে। সবাই এমনিই পেখমের ভুলত্রুটি খুঁজতে থাকে। এখন নওশিরের কারণে পেখম নিজেই আস্ত একটা গসিপ হয়ে গেছে।

পেখম গসিপের ভিড় থেকে যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলো। করিডর ধরে হাঁটছিলো, কিন্তু কানে ভেসে আসছিলো মেয়েদের চাপা হাসি আর খোঁচা।

‘এইবার বুঝলি তো? স্যার কারে বেশি ‘স্পেশাল’ মনে করে।’

‘নিজেকে নিজে হয়তো প্রিন্সেস ডায়না মনে করে!’

‘কে জানে কি উল্টাপাল্টা কি করেছে স্যারের সাথে তাই এই অবস্থা। বিবাহিত ডিভোর্সী হলে এই হয় অবস্থা। বুঝি না টিচাররা যে এদের কেনো ভর্তি নেয়।’

‘সাজেকে আবার কিছু হয়নি তো? নাকি আগে থেকেই পরিচিত?’

শেষ কথাটা যেন বাজের মতো বাজলো পেখমের কানে। পা কেঁপে গেলো, বুকটা হুহু করে উঠলো। ওরা সাজেকের নাম জানলো কীভাবে? না কি কেবলই অনুমান? ভেতরে প্রচণ্ড রাগ জমে উঠলেও সে মুখ খোলার সাহস পেলো না। মাথা নিচু করে দ্রুত লাইব্রেরির দিকে হাঁটা দিলো।

লাইব্রেরির কোণে বসে বই খুললেও চোখ বারবার ঝাপসা হয়ে আসছিলো। পাতা উল্টে যাচ্ছিলো ঠিকই, কিন্তু কোনো শব্দ তার মাথায় ঢুকছিলো না। মিনমিন করে শুধু বলল পেখম, “সবাই আমাকেই টার্গেট করছে… নওশিরের জন্য… অথচ আমি তো চাইনি এসব।”

ঠিক তখনই পাশে চেয়ার টেনে বসলো আফ্রিদ। শান্ত গলায় বললো, “পেখম? আর ইউ ওকে?”

পেখম চমকে তাকালো। আফ্রিদের চোখে একধরনের অদ্ভুত দুশ্চিন্তা। যেনো সে সব বুঝে ফেলেছে। পেখম তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নিলো, গলায় জোর এনে বললো, ” না স্যার, আমি ঠিক আছি।”

আফ্রিদ বিশ্বাস করলো না। কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে শুধু বললো, “নওশির স্যার হয়তো খুব স্ট্রিক্ট… কিন্তু স্টুডেন্ট গুলো আপনাকে নিয়ে যেভাবে গসিপ করছে, সেটা আমি সহ্য করতে পারছি না।”

পেখম থমকে গেলো। কিন্তু উত্তর দিলো না। খানিকবাদে আফ্রিদ বিদায় নিয়ে চুপচাপ উঠে চলে গেলো, কিন্তু পেখমের বুকের ভেতর কেমন অস্বস্তি জমে রইলো।

পরদিন সকালে ক্লাসরুম গমগম করছে। সবাই উচ্ছ্বসিত, “আজ তো নওশির স্যারের ক্লাস আছে!”

“দেখিস না, আবার কাকে টার্গেট করে।”

“আমার বাজি, আজও পেখম।”

“পেখমকে ভালো মতোই পেয়েছে।”

কথাগুলো পেখমের কানে আসছিলো। বুক ধড়ফড় করছিলো, হাত ঘেমে যাচ্ছিলো অস্বস্তিতে। দরজা ঠেলে নওশির ঢুকতেই সারা ক্লাস নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। শান্ত মুখে বই খুলে বললো, “লাস্ট ক্লাসের টপিক নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন?”

কেউ চুপ করে রইলো। ঠিক তখনই তার চোখ পড়লো সামনের সারির দিকে, কিন্তু হঠাৎ স্থির হলো পেছনে বসা পেখমের দিকে।

“মিস পেখম?”

পেখম আঁতকে উঠলো। গলা শুকিয়ে গেলো। তোতলাতে তোতলাতে বললো, “না… মানে… প্রশ্ন নাই।”

নওশির ভ্রু সামান্য উঁচু করলো। ঠাণ্ডা গলায় বললো, “প্রশ্ন করার মানে হচ্ছে কনসেপ্ট ক্লিয়ার না। আর আপনি যদি প্রশ্নই না করেন, তাহলে বুঝবো; সবকিছু পারফেক্ট, তাই তো?”

ক্লাসে চাপা হাসি ছড়িয়ে পড়লো। পেখমের কান গরম হয়ে উঠলো, মাথা ঝুঁকে গেলো ডেস্কের ওপর। কিন্তু এবার নওশির আর থামলো না। বোর্ডে লিখতে লিখতে নিচু স্বরে বলে উঠলো, “একটা কথা মনে রাখবেন, ডাক্তার হতে চাইলে আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে চলবে না। লজ্জা নিয়ে পড়াশোনা হয় না, মিস পেখম।”

পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ। পেখম মাথা নিচু করে বসে রইলো, বুকের ভেতর কেমন জানি ঝড় বয়ে যাচ্ছিলো। আর করিডরের বাইরে, জানলা দিয়ে সবকিছু লক্ষ্য করছিলো আফ্রিদ। তার মুঠো শক্ত হয়ে উঠলো, “এই নওশির স্যার… আসলে পেখমকে নিয়ে কী করছে? সমস্যা কি তার?”

চলবে…

প্রানেশা আহসান শীতল

  • Related Posts

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব ৬২]

    একটা ছোট মেয়ে। বয়স নয় কি দশ হবে। মাথাভর্তি উসকোখুসকো চুল। পরনের জামাকাপড়ে ময়লার পুরু আস্তরণ জমে আছে। কাঁধে ঝুলছে একটা মোটা পাটের বস্তা, যার প্রায় অর্ধেকটা ভরে গেছে হলদেটে…

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব-৬১]

    গুলনূরের চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসা জলকণা গালের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে একবিন্দু একবিন্দু করে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কষ্টের মাঝেও সে হাসছে! তার ঠোঁটের কোণ বিদ্রূপে ভরা। জাওয়াদের দিকে নির্ভীক…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব ৬২]

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব ৬২]

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব-৬১]

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব-৬১]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [শেষ পর্ব]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [শেষ পর্ব]

    অটবী সুখ [পর্ব-০১]

    অটবী সুখ [পর্ব-০১]

    প্রজাপতি আমরা দুজন [পর্ব-০৮]

    প্রজাপতি আমরা দুজন [পর্ব-০৮]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [পর্ব-০৯]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [পর্ব-০৯]