প্রজাপতি আমরা দুজন [পর্ব-০৭]

নিঝুম তিতলির রুমের সামনে এসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড। তাকে বিচলিত দেখাচ্ছে।দরজায় টোকা দিতে চাইছে কিন্তু পারছে না।নিঝুম এরকম বেকায়দা অবস্থায় কখনো পড়েনি।একটা মেয়ের রুমের দরজায় কড়াঘাত করতে গিয়ে তার এতো অস্থিরতা হওয়ার কথা নয়।নিঝুম বড় নিঃশ্বাস নিল।এরপর হালকা কেশে দরজায় টোকা দেয়।সাথে ক্ষীণ স্বরে ডাকলো,

— “তিতলি?”

তিতলি জানালার পাশে বসে সন্ধ্যার আকাশ দেখছিল।আকাশ কালো করেছে।ঠান্ডা একটা হাওয়া চারপাশে। নিঝুমের গলার স্বর তিতলির অস্তিত্বসহ সর্বাঙ্গ কাঁপিয়ে তুলে।তিতলি বিড়বিড় করে ‘কার গলা শুনলাম।’ওড়না নিয়ে তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে নামে।দ্রুত দরজা খুলে।নিঝুম তখন দ্বিতীয়বারের মতো ডাকতে নিচ্ছিলো, তার আগেই তিতলি দরজা খুলে।দুজনের চোখাচোখি হতেই নিঝুম হালকা করে হাসে।তিতলি গলা টেনে বললো,

— “আ-প-নি?’

নিঝুম তিতলিকে ব্যঙ্গ করে গলা টেনে বললো,

— “কে-নো আ-স-তে পা-রি-না?”

তিতকি খিলখিল করে হেসে উঠলো নিঝুমের দুষ্টুমি দেখে।নিঝুম চোখের চশমাটা ঠিক করে বললো,

— “হাসবেই নাকি রুমে আসতে বলবে?”

তিতলি সরে দাঁড়িয়ে বিনয়ীর সাথে বললো,

— “আমার রুম আর কই! আপনারই বাসা।অনুমতি লাগে নাকি।”

— “এটা ঠিক না।তুমি থাকো। এখন এইটা তোমার রুম।আর কারো রুমে অনুমতি নিয়া ঢুকা ভদ্রতা।”

তিতলি হেসে বলে,

— “আচ্ছা আসুন।অনুমতি দিলাম।”

নিঝুম চোখ ঘুরিয়ে রুমটা দেখতে থাকে।পরিপাটি,গোছানো। বিছানার পাশে কনসোল টেবিলে ফুলের টব।তাতে তাজা ফুল।তিতলি বললো,

— “আমার রুমে সোফা নেই বিছানায় বসুন।নয়তো চেয়ারে।আর আপনার মতো আমার রুমে রান্নাঘর নাই তাই কফি বা চা অফার করতেও পারবনা।”

তিতলির কথা শুনে নিঝুম হাসলো।তারপর উত্তর দেয়,

— “না আমার চা-কফি লাগবেনা।আর বিছানায় বসতে পারি কিন্তু এখন বসবনা একটা কথা বলতে আসছি বলেই চলে যাবো।”

তিতলি প্রশ্নবোধক চিহ্ন চোখে-মুখে ফুটিয়ে তাকায়।

নিঝুম রুমটা আরেকবার দেখে বললো,

— “ফুল দেখছি।পছন্দ করো নাকি?”

তিতলি নতজানু হয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো।নিঝুম হঠাৎ মনে পড়ার মতো ভাব করে বললো,

— “ওহ,যা বলতে এসেছিলাম।বলেছিলামনা কাল চা বাগানে নিয়ে যাবো তোমাকে?”

তিতলির কান্না চলে আসে গলা পর্যন্ত।নিঝুম কি বলবে? কালকে যেতে পারবেনা বলবে?কিন্তু তিতলি যে অনেক কল্পনা, জল্পনা করে বসে আছে কালকের দিনটাকে নিয়ে।নিঝুম শান্ত গলায় বললো,

— “আমরা কাল বিকেলে যাচ্ছিনা।সকালে যাবো।”

তিতলি জোরে টেনে নিঃশ্বাস নেয়!প্রশান্তির নিশ্বাস.এরপর প্রশ্ন করে,

— “কিন্তু কেনো ভাইয়া?”

নিঝুম নিজ হাতে ঘাড় ম্যাস্যাজ করে বললো,

— “বিকেলে কাপলদের ভীর থাকে।আমরা সকালেই যাব।”

তিতলি চোখ অস্থির রেখে জবাব দেয়,

— “আচ্ছা ভাইয়া।আমার সমস্যা নাই।আপনি পাশে থাকলেই হবে।”

তিতলির শেষ কথাটা অস্পষ্ট ছিল। নিঝুম বুঝতে না পেরে বললো,

— “কী?”

তিতলি বড় বড় চোখ করে তাকায়।গোপনে ঢোক গিলে বললো,

— “না মানে,ঘুরতে পারলেই হলো।”

— “ওহ,আচ্ছা আসি।”

তিতলি পিছন ডাকে,

— “শুনুন?”

নিঝুম ঘুরে তাকায়।চার চোখ এক হয়।নিঝুমের চোখের দিকে একবার নিজের দৃষ্টি গেঁথে গেলে তিতলি হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ে।তাই হলো।আবিষ্টভাবে চেয়ে থাকে তিতলি।তিতলি জানে এই মানুষটার মনে তাকে নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, আগ্রহ নেই,অনুভূতি নেই, ভালবাসা নেই।তবুও মানুষটার উপস্থিতি ভেতরে বাহিরে অবিরাম আন্দোলিত করছে।নিঝুম তিতলির চাহনি দেখে হাসে।

— “তিতলি?”

তিতলি কেঁপে উঠে চোখ সরিয়ে নেয়।নিঝুম বললো,

— “ডাকলে কেনো?”

তিতলি নিজেকে সামলিয়ে বললো,

— “আমি কাল শাড়ি পরি?”

নিঝুম ভ্রু উঁচিয়ে বললো,

— “ট্রাভেল করতে গেলে কেউ শাড়ি পরে?”

তিতলির হাসিখুশি মুখটা চুপসে যায়।নিঝুম ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়েই বললো,

— “আচ্ছা শাড়ি পরিও।মন খারাপ করতে হবেনা।চা বাগানে যখন উঁচ উঁচু ছোট বড় পাহাড়গুলোতে উঠবে তখন পা ভেঙ্গে আমাকে ফাঁসিয়োনা শুধু।”

তিতলি কিছুটা আর্তনাদের মতো করে বললো,

— “এমা!পা ভেঙ্গে যাবে?আমি কাঁদবো তো।”

— “আমি আছিনা? বড় ভাই।সামলাবো চিন্তা করোনা।”

বড় ভাই কথাটি শুনে তিতলি ভেতরে ভেতরে ফুঁসফুঁস করে উঠলো।দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে গালি দেয়,

— “গবেটের ঘরে গবেট।হাবলার হাবলা আপনি আমার বড় ভাই,না?আমি যদি কোনোদিন বাগে পাই আপনারে আমার একদিন কি আপনার একদিন।”

নিঝুম তিতলির ভাবনাগ্রস্ত মুখ দেখে ভুরু কুঁচকায়।

— “কি? কি ভাবো?”

— “হে না না কিছুনা।”

— “আচ্ছা আসি।”

—- “আসুন।”

নিঝুম বেরিয়ে যায়।তিতলি ঠাস করে দরজা লাগায়।ওড়না বিছানার রাখে।নিঝুম দরজার আওয়াজ শুনতে পেয়ে আবার আসে।দরজা ধাক্কা দিয়ে উঁকি দেয়।

— “আওয়াজ করে দরজা লাগালে কেনো? আমার উপর কোনো কারণে ক্ষেপেছো?”

তিতলি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।কি আজব!ওড়নাটা রাখতেই লোকটা চলে আসছে।নিঝুম তিতলির জবাব না পেয়ে,

— “স্ট্যাচু হয়ে আছো কেনো? এদিক ফিরো।প্রশ্ন করেছি একটা।”

তিতলি পড়ে বেকায়দায়। তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়,

— “না, না কারোর উপর ক্ষেপে নেই আমি।আপনি আসুন।”

নিঝুম আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো।হুট করে খেয়াল হয় তিতলির গায়ে ওড়না নেই মনে হচ্ছে।নিঝুম অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।দ্রুত ‘আসি’ বলে জায়গা ছাড়ে।নিঝুমের সাড়া না পেয়ে তিতলি ঘুরে দাঁড়ায়।দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে লক করে।বুকে হাত রেখে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে।ওড়নাটা মাথায় দিয়ে একা একা কতক্ষণ হাসে।ভাবতেই পারছেনা নিঝুমের সাথে এতো কথা হয়।তিতলি শুয়ে পড়ে বিছানায়।নতুন প্রেমে পড়া মেয়েরা কারণে-অকারণে বিছানায় শুয়ে ভাবনায় ডুবে।তিতলি এখন সেই পথের যাত্রী।সন্ধ্যার বাতাসটা জানালা দিয়ে হো হো করে আসছে রুমে।তিতলির শরীর জুড়িয়ে যাচ্ছে।বাতাসের সাথে মিশে যেন আসছে সহস্র ভালবাসার অনুভূতি।

____________________________________________________

ডিনারে।আঞ্জুমান মৌনতার উপর ক্ষেপেন।

— “মৌ?চেহারার কি ছিরি!হে?”

মৌনতা মায়ের উত্তর না দিয়ে খেয়েই যাচ্ছে।

— “কথা বলস না কেন?রাত জেগে প্রেম করতে হয়? ওই ছেলেরে বলবি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতে।আমার বাড়িতে এতো রাত জেগে চোখের নিচে কালি করবিনা।মনেই হচ্ছে না আমার মেয়ে।”

আঞ্জুমানের কথা শুনে আলতাফ চৌধুরী হা হা করে হাসেন।আঞ্জুমান তীক্ষ্ণ চোখে তাকান।বলেন,

— “তুমি হাসতাছো কেনো?”

আলতাফ চৌধুরী হাসি থামিয়ে খাবারে মন দেন।আঞ্জুমান তেজ বাড়িয়ে বলেন,

— “মেয়েগুলা বাপের মতো হইছে।কিছু জিজ্ঞাসা করলে মুখ দিয়ে কিছু বের হয় না।মুখে কিছু ঠাসা মেরে রাখে।

মোহনা খাবার রেখে বললো,

— “মৌনতা আর বাবার জন্য আমাকে বকলে।”

আঞ্জুমান মোহনার দিকে তাকিয়ে বলেন,

— “তুই তো তোর বাপেরই মেয়ে।”

মৌনতা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

— “কেন আব্বু কি করছে?আব্বুকে নিয়ে কিছু বলবানা।”

— “তুই আমারে শিখাবি? কেমনে কথা কমু?”

মিসেস আঞ্জুমান রেগে ফেটে চৌচির।

আলতাফ চৌধুরী ইশারায় মেয়েদের চুপ হতে বলেন।ইশারায় বুঝান, ‘তোদের মা তো এমনি।থাকুক বলুক।একসময় চুপ হয়ে যাবে।’মৌনতা,মোহনা চুপচাপ খেয়ে চলে যায়।আলতাফ চৌধুরী হালকা কেশে মিসেস আঞ্জুমানের দৃস্টি আকর্ষণ করেন।মিসেস আঞ্জুমান তাকালে উনি বলেন,

— “ছেলেরা কই?তিতলি কই?’

— “রুমে।নির্জন আসবে খেতে।নিঝুম গতকাল থেকে কোনো কাজে ব্যস্ত খুব।আজও রুমে খাবে।আর তিতলি বই পড়তেছে।চলে আসবে এখুনি।”

— “আচ্ছা পাঠিয়ে দাও নিঝুমের খাবার।আর নির্জন, তিতলিকে ডেকে আনো।অনেক রাত হইছে।”

আঞ্জুমান রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে বলেন,

— “পাঠাবো একটু পর।তোমার তো খাওয়া শেষ যাও রুমে আমি আসছি।”

তিতলি নেমে আসে।ড্রয়িংরুম দেকে প্রশ্ন করে,

— “ফুফি আম্মা সবার খাওয়া শেষ?”

— “হ্যাঁ মা।”

— “সরি, ফুফি আম্মা।দেরি হয়ে গেল।”

আঞ্জুমান বলেন,

— “সমস্যা নাই।নিঝুমও খায় নাই।টুনি মনে হয় ঘুমিয়ে পড়ছে।একটু দিয়ে আসবা খাবারটা নিঝুমের রুমে?”

তিতলি যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পেলো।মনে মনে নেচে উঠে।উপরে মিষ্টি হেসে বিনয়ীর সাথে বললো,

— “জ্বি পারবো। দিয়ে আসছি।”

আঞ্জুমান একটা প্লেট এনে তিতলির হাতে দেন।বলেন,

— “নিঝুম তো রাতে রুটি খায়।বলিও একটা রুটিও যেন না থাকে।পাঁচটাই যেন শেষ করে।আর গরু মাংস শেষ। আজ মুরগি খেয়ে নিতে।আর সিদ্ধ ডিম দুইটা আছে।”

— “আচ্ছা আন্টি।”

তিতলি প্লেট নিয়ে সিঁড়িতে উঠে।আঞ্জুমান ডাকেন,

— “তিতলি?”

তিতলি ঘাড় ঘুরে তাকায়।

— “তোমার খাবারটাও নিয়ে যাও একসাথে খেয়ে নিও।”

তিতলি সৌজন্যতার সাথে হেসে বললো,

— “আমি পরে এসে খেয়ে নেব।”

____________________________________________________

— “আসব ভাইয়া?”

নিঝুম শার্ট খুলছিল।তিতলির কণ্ঠ শুনে তাড়াতাড়ি বোতাম লাগিয়ে নেয়।এরপর বলে,

— “হুম আসো।”

তিতলি দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে।নিঝুমকে বলে,

— “আপনার খাবার।”

— “টুনি কই? তুমি কেনো?”

— “ঘুমিয়ে পড়েছে।ফুফি আম্মা আমাকে পাঠালো।”

নিঝুম বিছানা থেকে বইপত্র তুলে জবাব দেয়,

— “আম্মু ও না বাচ্চা হয়ে যায়।অতিথিকে কেউ ফরমায়েশ দেয়!”

— “আমার কিন্তু ভালোই লাগে বড়রা যখন কিছু করতে বলে।”

— “এই প্রথম কেউ এমন কথা বললো।”

— “সত্যি বলছি আমি।”

— “আচ্ছা।আমার ফরমায়েশ খাটো একটু।”

তিতলি মাথা উচিয়ে থাকায়।খুশি হয় খুব!

— “কি করতে হবে?”

— “বাবাহ!কাজ করতে একদম প্রস্তুত।না বাবা! লাগবেনা।আমি নিজের কাজ নিজেই করি।”

— “খাবারটা তো নেন।”

— “রাখো।আমি আসছি।”

তিতলি সেন্টার টেবিলে খাবার রাখে।নিঝুম ওয়াশরুমে ঢুকে।ব্যালকনির পর্দা গুলো উড়াউড়ি করছিল খুব।তিতলি আগ্রহ নিয়ে ব্যালকনিতে আসে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।ছিটে এসে জল পড়ছে ব্যালকনিতে।বারান্দায় জ্বলছে লাল ড্রিম লাইট।আরেকটু এগিয়ে দাঁড়ায় তিতলি।দমকা বাতাস আসছে।তিতলি খোঁপা থেকে মুক্ত করে দেয় চুল।শরীরে এসে জল পড়ছে।সে ভুলে যাচ্ছে অন্যকারো রুমে এটা।অন্যকারো ব্যালকনি।হঠাৎ কারো ঠোঁটের ছোঁয়া পায় ঘাড়ে।কেঁপে উঠে।ঘুরে দাঁড়ায়।দেখে, নিঝুম এক হাতে তার কোমর ধরে টেনে রেখেছে নিজের কাছে। তিতলি আমতা আমতা করে বললো,

— “আ,আপনি?”

নিঝুম তিতলির উত্তর না দিয়ে ওর চোখের পাতায় চুমু এঁকে দেয়।তিতলির শরীরে ঠান্ডা শিরশির অনুভব হয়। নিঝুমের সাদা শার্ট খামচে ধরে।নিঝুম ফিসফিসিয়ে বলে,

— “ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি।”

তিতলির পায়ের তালু থেকে চুল অব্দি কেঁপে উঠে।নিঝুমকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।চোখ বুজে আবেশে।তখনি কেউ একজন ধমকের স্বরে ডাকে,

— “এই তিতলি?”

তিতলি চমকে উঠে।চোখ খুলে পিছন ঘুরে।নিঝুম দাঁড়িয়ে আছে।তার চেয়ে কয়েক হাত দূরে।নিঝুম গলার স্বর চড়া করে বলে,

— “তুমি কি পাগল?বৃষ্টিতে তো ভিজে টুইম্বুর হয়ে যাচ্ছো।তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে আছো।”

তিতলি নিজের দিকে আবিষ্টমনে তাকায়।এরপর আবার নিঝুমের দিকে তাকায়।চেয়েই থাকে।বুকের মন নামক যন্ত্রণাটা থেমে থেমে কাঁপছে।ড্রিম লাইটের লাল আলোয় নিঝুমকে অদ্ভুত মনে হচ্ছে।নাকি তাঁর ভুল? কিন্তু এখানে বেশিক্ষণ থাকলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।তিতলির নিজেকে মাতাল মনে হচ্ছে।ছটফটানি হচ্ছে ভেতরটা।ইচ্ছে হচ্ছে একবার মানুষটাকে জড়িয়ে ধরে বলতে, ‘আমি আপনাকে ভালবাসি।প্লীজ আপনিও আমাকে ভালবাসুন।’ নিঝুম তিতলির ব্যবহার দেখে ভড়কে যায়।উদ্বেগ হয়ে বলে,

— “কি হইছে তিতলি?এমন করছো কেনো?কোনো সমস্যা?”

তিতলির সত্যি সত্যি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।নিঝুমের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।নিঝুম টাল সামলাতে না পেরে দু’কদম পিছিয়ে যায়।দেয়ালে হাত রাখে।এমন কিছু হবে নিঝুম ভাবেনি,কক্ষনো ভাবেনি!মুহূর্তে সর্বাঙ্গে উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে।

চলবে….

  • ইলমা বেহরোজ
  • Related Posts

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব ৬২]

    একটা ছোট মেয়ে। বয়স নয় কি দশ হবে। মাথাভর্তি উসকোখুসকো চুল। পরনের জামাকাপড়ে ময়লার পুরু আস্তরণ জমে আছে। কাঁধে ঝুলছে একটা মোটা পাটের বস্তা, যার প্রায় অর্ধেকটা ভরে গেছে হলদেটে…

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব-৬১]

    গুলনূরের চোখের কোণ বেয়ে নেমে আসা জলকণা গালের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে একবিন্দু একবিন্দু করে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কষ্টের মাঝেও সে হাসছে! তার ঠোঁটের কোণ বিদ্রূপে ভরা। জাওয়াদের দিকে নির্ভীক…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব ৬২]

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব ৬২]

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব-৬১]

    নবোঢ়া: আগুনফুলের আত্মনিবেদন [পর্ব-৬১]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [শেষ পর্ব]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [শেষ পর্ব]

    অটবী সুখ [পর্ব-০১]

    অটবী সুখ [পর্ব-০১]

    প্রজাপতি আমরা দুজন [পর্ব-০৮]

    প্রজাপতি আমরা দুজন [পর্ব-০৮]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [পর্ব-০৯]

    মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [পর্ব-০৯]