প্রেমে পড়ার মুহূর্তের মতো মাধুর্যমণ্ডিত আর কোনো অনুভূতি পৃথিবীতে নেই। এই অদৃশ্য অনুভূতির স্পর্শ জীবনের প্রতিটি খুঁটিনাটিকে নতুন রঙে, নতুন আলোয় সাজিয়ে তোলে। যেসব দৃশ্য একদিন নিরস ও একঘেয়ে মনে হতো, সেগুলোই হঠাৎ করে অপার সৌন্দর্যের আধার হয়ে উঠে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহও তখন শীতের মৃদু শিহরণের মতো লাগে, আর শীতের কনকনে হিমেল হাওয়াও গরমের উত্তাপের মতো হৃদয়ে আবেগ জাগিয়ে তোলে।
শব্দরের জীবনেও ঠিক এমনই এক রূপান্তর ঘটেছিল বছর তিনেক কিংবা আরেকটু কমবেশি সময় পূর্বে৷ মাঘ মাসের এক শীতল সকালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সে পা রাখে উলুকান্দির জমজমাট বাজারে। সেখানে একটি বড় দোকান ভাড়া নেয়। পরিকল্পনা থাকে কিছুদিন সেখানে অবস্থান করে ব্যবসার পরিধি বিস্তার করার।
একই বাজারে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বেশ কিছু বেদে পরিবারের উপস্থিতিও দেখা যায়। পুরুষেরা হারবাল ওষুধের ব্যবসা করে। কেউ কেউ সাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করে। বানরের খেলাও থাকে তাদের আয়ের আরেকটি উৎস। ছোট ছোট বানর সাইকেল চালায়, লাঠি নিয়ে কসরত করে, এমনকি মানুষের মতো হাঁটাচলাও করে। জাদু আর কারসাজিতেও তাদের উপস্থিতি। হাতের মুঠোয় কয়েন গায়েব করা, খালি থেকে ফুল বের করা, এমন সব দেখিয়ে তারা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
নারীরা রঙিন চুড়ি, নানা রকমের ফিতা, সস্তা প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, ঘর সাজানোর শোভাবর্ধক জিনিস বিক্রি করতে বিভিন্ন জায়গা দখল করে বসে। তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ ভবিষ্যৎ বলার কাজও করে। হাতের রেখা দেখে ভাগ্য গণনা, তাবিজ-কবচ তৈরি, নানা কুসংস্কারভিত্তিক পরামর্শ দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।
এরমধ্যে শব্দরের কানে আসে অপ্রীতিকর এক খবর। কয়েকদিন ধরে নাকি এ অঞ্চলের এক প্রভাবশালী সওদাগরের অকর্মণ্য পুত্র বেদে তরুণীদের উত্ত্যক্ত করে চলেছে। এই যুবকটি তার পিতার অর্থবল ও সামাজিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ভাবে। শুধু উত্ত্যক্ত করাই নয়, তার নামে নারী ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগও আছে৷ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। একটি প্রাণবন্ত জীবন অকালে ঝরে যায় শুধুমাত্র একজনের লালসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে। অথচ আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এত বড় অপরাধের পরেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। কোনো শাস্তির ব্যবস্থা হয় না, কোনো প্রতিকার হয় না। বরং সে তার কুকর্ম অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছে, এবার লক্ষ্য করেছে ব্যবসার জন্য আসা বেদে তরুণীদের।
শুনে শব্দরের ভ্রু কুঁচকে যায়। বাজারের প্রধান কী করছে? এলাকার প্রশাসন কোথায়? এত বড় অন্যায় ঘটে যাওয়ার পরেও কেন সবাই নীরব? কেন কেউ এগিয়ে আসছে না ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে?
সেদিন বিকাল নাগাদ হঠাৎই চারদিকে হৈচৈ শোনা যায়। মানুষের চিৎকার, কান্নার আওয়াজ বাতাসে ভেসে আসে। শব্দরের সঙ্গে সবসময় থাকা বিশ্বস্ত সহচর গাবু দ্রুত তার কাছে এসে নিচু গলায় জানায়, ‘সওদাগরের পোলা আইছে, হুজুর। আবার কোনো গণ্ডগোল করতাছে।’
নারীদের আর্তচিৎকার কানে আসতেই শব্দরের বুকের ভেতর রক্ত টগবগ করে ওঠে। সে দোকান থেকে দ্রুত বেরিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। দেখে, ইতিমধ্যে সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভীড় জমে গেছে। সওদাগরের উদ্ধত ছেলেটি একটি বেদেকন্যার শাড়ির আঁচল শক্ত করে টেনে ধরে রেখেছে। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সেই পাশবিক শক্তির কাছে তার দুর্বল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।
এমন ভয়াবহ, লজ্জাজনক দৃশ্য শব্দর একবারই দেখেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময়। পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার দিনগুলোতে। তারপর আর কখনো এমন পাশবিকতার সাক্ষী হয়নি। চারপাশের সব মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছে, কেউ এগিয়ে আসছে না। ক্ষমতার দাপট এমনই! ক্ষমতা থাকলে কেউ ধারেকাছে ঘেঁষার সাহস পায় না। যতই জালিমি হোক, যতই অন্যায় হোক, সবাই পাশে থেকে শুধু নির্বিকার চোখে দেখে যায়। এই নীরবতাও তো একধরনের অপরাধ। রাগে শব্দরের চোখ জ্বলে ওঠে। দেরি না করে এগিয়ে যেতে উদ্যত হয়। কী হবে না হবে, এসব চিন্তা তার মাথায় নেই। তার শুধু মনে হচ্ছে, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই হবে।
ঠিক সেই মুহূর্তে, একটি নীল ঘাগড়া পরা তরুণী এসে উল্টো দিক থেকে শাড়ির আঁচল শক্ত করে টেনে ধরে। তার গলায় জড়িয়ে আছে একটি সাপ, ফণা তুলে রেখেছে। সওদাগরের ছেলের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় ভয়ে। চারপাশের মানুষ আঁতকে ওঠে। ভয়ে একটু দূরে সরে যায়।
মেয়েটি মাথা উঁচিয়ে বলে, ‘সওদাগরের ছাও, আঁচল ছাড় নয়তো চল আমগোর নৌকায়। সাপের বিষ দিয়ে তোর বিচি ভরে দেব!’
ভীড়ের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। কেউ কেউ বলে, ‘একি খারাপ কথা!’ কেউ কেউ বলে, ‘কী নোংরা ভাষা! এদের এই বাজার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক।’ আবার কেউ কেউ মুখ টিপে হাসছে মেয়েটির সাহসিকতা দেখে।
সওদাগরের ছেলের চোখমুখের রঙ কালো হয়ে যায়৷ চেঁচিয়ে উঠে বলে, ‘সাপের ভয় দেখাস না। আমি তোর সাপের ভয় পাই না। আমার বাপ কে জানিস? তোদের মতো ছোটলোকদের…’
মেয়েটি কথার মাঝে বলে, ‘তোর বাপ কে সেটা জেনে আমার কী লাভরে? পয়সা খাইয়া আমার সাপ পোষা হয় নাহি। এই দ্যাখ-‘ বলে সে তার গলার সাপটিকে হাতে নিয়ে সওদাগরের ছেলের দিকে এগিয়ে ধরে। ‘এইটা কালনাগিনী। একটা কামড় দিলে তোর মতো দশটা মরে যাইবে।’
সওদাগরের ছেলে পিছিয়ে গিয়ে মুখে বড়াই করে বলে, ‘আমি সাপে ভয় পাই না। এখান থেকে আজই চলে যা। এই জায়গা তোদের না।’
‘তোর বাপের জায়গা? তোদের দাদার জায়গা? আমরা যেখানে খুশি সেখানে যাইব। তুই কেরে আমাগোরে কইতে? তোর কি মনে অয় এই মাটি, এই আকাশ শুধু তোগোর লাইগা বানাইছে আল্লাহ?’
সওদাগরের ছেলে আরো বেপরোয়া হয়ে বুক ফুলিয়ে বলে, ‘তোরা নোংরা জাত! ভদ্র মানুষদের জায়গায় থাকার অধিকার নেই তোদের।’
এ কথা শুনে মেয়েটির চোখ প্রথমে আগুন জ্বলে ওঠে। পরক্ষণেই হেসে বলে, ‘নোংরা? নোংরা কে রে হারামজাদা? যে মেয়েমানুষের আঁচল ধইরা টানে, যে নিরপরাধ মানুষরে পিটাইয়া রক্তাক্ত করে, তার চাইতে নোংরা আর কে অইতে পারে? তুই একটা আইনায় নিজের মুখ দেখ। নিজের কাম-কারবার দেখ। আর আমরা দিনের আলোয় কাম করি, রাইতে ভাত খাই। চুরি করি না, ডাকাইতি করি না, মেয়েমানুষ ধরি না।’
সওদাগরের ছেলে ক্রোধে পাগলের মতো হয়ে চিৎকার করে, ‘চুপ! চুপ কর। সাপ নিয়ে এখান থেকে দূর হ, নয়তো…
তুই আমাকে জানিস না! ছিঁড়ে এই বাজারে ঝুলিয়ে রাখব।’
‘জানি, তুই এক নম্বর হারামজাদা!’ মেয়েটি ঝাঁঝালো গলায় জবাব দেয়। ‘তোর কারণে এক মেয়ে মরে গেছে। তুই খুনি। তুই কুত্তার ছাও কুত্তা।’
সওদাগরের ছেলে সীমাহীন ক্রোধে উন্মাদ হয়ে যায়। দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মেয়েটিকে মারতে এগিয়ে যায়। কিন্তু মেয়েটি বিদ্যুতের মতো দ্রুততায় সাপটি তার মুখের সামনে ছুঁড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করতেই সে পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েটি বজ্রকণ্ঠে বলে, ‘মারবি? মার! দ্যাখি কত সাহস!’
সওদাগরের ছেলে অপমানের জ্বালায়, ভয়ের জ্বালায় মুখ কুচকে কালো করে ফেলে। চোখে রক্তের ছোপ নিয়ে, কণ্ঠস্বর কাঁপিয়ে শেষবারের মতো হুমকি দিয়ে, লজ্জা আর পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করে। তার প্রস্থানের সাথে সাথে বাজারের কোলাহল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। মানুষজন একে অপরের সাথে ফিসফিস করতে করতে, কেউ প্রশংসা করে, কেউ নিন্দা করে, যে যার মতো চলে যায়। শুধু শব্দর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে ঠোঁটের মৃদু হাসি নিয়ে৷ মেয়েটির কী অসাধারণ সাহসিকতা! কোনো বেদে ভয়ে এগিয়ে যায়নি, কোনো সাধারণ মানুষও না, এই অল্প বয়সী মেয়েটি এগিয়ে গেছে! একটুও ভয় পায়নি!
এমন সাহস কেবলমাত্র তার ফুফু কোহিনুরের চরিত্রেই দেখেছে। মেয়েটিকে আরও ভালোভাবে দেখে শব্দর। তার চোখ দুটি বেশ বড় বড়, কপালের উপর কয়েকগাছা এলোমেলো চুলের ঢেউ খেলে যাচ্ছে হাওয়ায়। গায়ের রং জন্মগতভাবে ফর্সা হতে পারে, কিন্তু এখন তাতে প্রকৃতির ছোঁয়া লেগেছে। দীর্ঘদিনের রোদ-বৃষ্টিতে একটি স্বাস্থ্যকর শ্যামলা আভা পড়েছে ত্বকে। এই রূপেই বরং তাকে আরও বেশি ভালো দেখাচ্ছে।
শব্দর তার দোকানে ফিরে যায় ঠিকই কিন্তু মনে সেই মুহূর্তটি গেঁথে থাকে। পরদিন শুনে, বেদেরা সওদাগরের ভয়ে রাতেই চলে গেছে৷ জানতে পারে, সেই সাহসী মেয়েটির নাম জুলফা। যার শাড়ির আঁচল নিয়ে সওদাগরের ছেলে টানাটানি করেছিল, সে হলো বৈশাখী – জুলফার ভাইবৌ। বৈশাখীর স্বামী, অর্থাৎ জুলফার ভাই সেই মুহূর্তে একেবারে কাছেই উপস্থিত ছিল। কিন্তু স্ত্রীর সম্মান রক্ষার জন্য সে এগিয়ে যায়নি ভয়ে। বরং এগিয়ে গিয়েছিল তার ননদ জুলফা।
শব্দরের মনে জুলফার প্রতি তীব্র মুগ্ধতার জন্ম নেয়। শীতের কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও তার বুকের ভেতর একটা উষ্ণ অনুভূতি জাগে যখনই সে জুলফার কথা ভাবে। তবে তখনো সেই মুগ্ধতা প্রেমের সীমানায় পৌঁছায়নি। প্রেমের পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে আরও এক বছর পরে। এই পুরো এক বছর ধরে জুলফা একজন সাহসী, আদর্শবান নারী হিসেবে শব্দরের চেতনায় স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসে থাকে নীরবে।
কাল-চক্রের পরিহাসে পরবর্তী বছরের মাঘ মাসেই আবার জুলফার দেখা পায় শব্দর। শীতের তীব্রতা তখন চরমে। হিমশীতল বাতাস মানুষের অস্থিমজ্জা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে। ব্যবসায়িক কারণে শব্দর কালীগঞ্জে আসে কিছুদিনের জন্য। নিত্য কাজের চাপ আর একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে একদিন সে তার বিশ্বস্ত সঙ্গী গাবুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে।
হঠাৎ করে নজরে পড়ে একটি নোংরা, দুর্গন্ধময় ডোবার মধ্যে একটি ছোট্ট বিড়ালছানা পড়ে আছে। নিঃসহায় প্রাণীটি তার ছোট গলায় আর্তনাদ করে চিৎকার করছে। শব্দরের হৃদয় পশুপাখির প্রতি বরাবরই কোমল। প্রাণীজগতের প্রতি তার এতো মমত্ববোধ! সে তৎক্ষণাৎ গাবুকে নির্দেশ দেয় ডোবা থেকে বিড়ালছানাটিকে উদ্ধার করতে।
হাড়-কাঁপানো শীতে কে-ই বা সেই নোংরা, বিষাক্ত পানিতে নামতে চায়? তাও আবার একটি তুচ্ছ বিড়ালের বাচ্চার জন্য! এই সমাজের মানুষেরা কুকুর-বিড়ালকে চোখের পলকে মেরে ফেলে। এসব প্রাণীর জীবনের কোনো দাম নেই মানুষের চোখে। গাবু মাথা নত করে অজুহাত তুলে ধরে, তার ইতোমধ্যেই জ্বর, সর্দি-কাশির সমস্যা চলছে। এই অবস্থায় ঠান্ডা পানিতে নামা মানে রোগ আরও বাড়িয়ে তোলা।
তাদের কথার মাঝখানেই যেন আকাশ ফেটে দেবদূত নেমে আসে। জুলফা কোথা থেকে এসে যেন কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই, কোনো ঘৃণা বা বিতৃষ্ণা প্রকাশ না করে সে অনায়াসে সেই নোংরা ডোবায় নেমে পড়ে। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে, নিজের পোশাক নষ্ট হওয়ার চিন্তা না করে সে সেই অসহায় প্রাণীটিকে তুলে আনে। পাশেই একটি পরিষ্কার পুকুর ছিল। জুলফা অত্যন্ত যত্নের সাথে বিড়ালছানাটিকে সেই পুকুরের পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে। নোংরা আর দুর্গন্ধ দূর করতে বারবার পানি ঢালে। তারপর রোদের মধ্যে রেখে দেয় যাতে প্রাণীটি উষ্ণতা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠে। সঙ্গে আরও দুটি বেদেকন্যা ছিল, যারা সাহায্য করে তাকে।
শব্দর সব কিছু ভুলে চঞ্চল, দয়ালু মেয়েটির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। জুলফার নাকে পরা বড়, গোল আকৃতির নাকফুল। দেখতে খুব পরিণত লাগছে। যেন এক বছরে অনেকটা পরিণত হয়ে গেছে৷ তার হাসিটাও শব্দরের দৃষ্টি কাড়ে৷ এমন প্রাণবন্ত হাসি সে কমই দেখেছে। তারপর…হঠাৎই, যেন বিজলি চমকের মতো নিজের মুগ্ধ দৃষ্টি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে শব্দর। সে তৎক্ষণাৎ নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। বেদে সম্প্রদায় সমাজে নিচু জাতি হিসেবে বিবেচিত। এদের প্রতি অন্যায় করা পাপ বটে, কিন্তু নিজের কাতারের মানুষ ভেবে কোনো নারীর প্রতি মুগ্ধ হওয়া সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। শব্দর জাত-পাতের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও রক্ষণশীল। এই বোধ তার মনে এতটাই প্রবল যে সে তার স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতিকেও দমন করতে বাধ্য হয়।সামাজিক বিধি-নিষেধের তাড়নায় সে সেই মুহূর্তেই সেখান থেকে চলে যায়। মন যতই জুলফার মহত্ত্ব ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থাকুক, সামাজিক অবস্থানের দেয়াল তাকে সেই অনুভূতি লালন করতে দেয় না।
কিন্তু নিয়তি তার পিছু ছাড়ে না। যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের পথ এক করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
চলবে,….
- ইলমা বেহরোজ


![মেঘের দেশে প্রেমের বাড়ি [শেষ পর্ব]](https://amarlekha.com/wp-content/uploads/2025/10/3cf51236-2d29-45c2-a963-4d58a217fde2.jpg)
![অটবী সুখ [পর্ব-০১]](https://amarlekha.com/wp-content/uploads/2025/11/aa823019-ffef-4aa7-9651-89294bd4fbe2.jpg)
![প্রজাপতি আমরা দুজন [পর্ব-০৮]](https://amarlekha.com/wp-content/uploads/2025/07/photo_6212761625384044921_y.jpg)